গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার মালামালসহ নগদ অর্থ লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। গত সোমবার বিকেলে (২৩ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তিলাটিয়া গ্রামে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ আল ফাহাদ রনি (৩৬) বাদী হয়ে স্থানীয় ১০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন তিলাটিয়া গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে মো: সাইদুল ইসলাম কাজল, মো: সাইদুল ইসলাম কাজলের ছেলে মো: সাব্বির হোসেন, রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর ছেলে বাঁধন মিয়া, আমিরুল ইসলামের দুই ছেলে বাঁধন আহম্মেদ, জীবন, মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো: আমিরুল ইসলাম, মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে মো: শহিদুল ইসলাম, মৃত আবু সাঈদের দুই ছেলে আতিক মিয়া, মো: রানা এবং ইকবাল হাসান দুদুর ছেলে আরিফ।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, তিলাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আল ফাহাদ রনি গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিবেশী শহিদুল ইসলামকে জামিনে মুক্ত করার জন্য তার স্ত্রীর অনুরোধে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ধার প্রদান করেন। শহিদুল জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রনি তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামি নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। গত ২৩ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রনি সপরিবারে গ্রামে আসলে পাওনা টাকা নিয়ে পুনরায় কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে বিকেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রনির বাড়িতে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে রনির চাচা নজরুল ইসলাম ও রতন মিয়াকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
মামলার বিবাদী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি গরীব মানুষ, আমাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট মামলা দায়ের করেছেন। উল্টো রনি আমার বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর করেছেন।
মামলার বাদী আল ফাহাদ রনি জানান, আমার চাচা শহীদুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তিনি আমাকে জেলহাজত থেকে বের করে আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করলে, আমি নিজের থেকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে তাকে জামিনে মুক্ত করে আনি। কথা ছিল হাজত থেকে বের হয়েই তিনি আমার এই টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি গড়িমসি শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আমি পারিবারিকভাবে আলোচনায় বসি, কিন্তু সমাধান তো দূরের কথা, উল্টো হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী নিয়ে তিনি আমার বাসভবনে হামলা চালান এবং জানালার কাঁচ, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, স্বর্নালঙ্কার, নগদ ৪ লক্ষ টাকা লুটসহ প্রায় ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। আমাদেরকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, বিবাদীদের ভয়ে বর্তমান পরিবার পরিজন নিয়ে সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন।
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ তানভীর আহাম্মদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার কপি পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।